Rajoir-Primary-School
মো. ইব্রাহীম, রাজৈর, বাংলারশিক্ষা:
বিদ্যালয় ভবন অধিক ঝুঁকিপূণ, তাই খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান ও পরীক্ষা। আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখলেই ছুটি দিতে হচ্ছে স্কুল। এভাবেই চলছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।

ভবনের ছাদের বিমের পলেস্তারা খসে সম্প্রতি পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীও আহত হয়েছে । এ ঘটনার পর ১৭ দিন ওই বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষে তালা দিয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির সামনে এখন গাছতলায় বসে পাঠদান ও পরীক্ষা চলছে খোলা আকাশের নিচে। 

রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউপির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৭৪ সালে নির্মিত হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ৭৪ জন ছাত্রছাত্রী ও চারজন শিক্ষক রয়েছে। ছাত্রছাত্রী কম থাকলেও বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার মান ভালো। ২০১৮ সালে পিইসি পরীক্ষায় ১জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২ জন জেনারেল গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। 

গত ১১ এপ্রিল টিফিনের সময় হঠাৎ ওই বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদের বিমের খণ্ড খণ্ড পলেস্তার খসে পড়ে। এসময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সমতা সরকার আহত হয়। পুরো বিদ্যালয় ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের দেয়াল খসে পড়ছে। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন স্থানে। তাছাড়া শ্রেণি কক্ষের ভেতরের মূল পিলারেও ধসে রড দেখা যাচ্ছে।

পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে ইউএনও সোহানা নাসরিন ওই ক্ষতিগ্রস্ত  ভবনের তিনটি কক্ষে তালা লাগিয়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং  পাঠদান অব্যাহত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে টিনের ঘর নির্মাণের নির্দেশ দেন। কিন্তু ২১ দিন পার হতে চললেও ওই বিদ্যালয়ে টিনের চালা ঘর নির্মিত না হওয়ায় কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা এখন গাছতলায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির বৃষ্টি মণ্ডল বলেন ,টিফিনের সময় ছাদ ধসে পড়ার পর থেকে আমরা খোলা আকাশের নিচে তাবু টানিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি । এখানে পচুর গরম আমাদের খুব দ্রুত একটি ভবনের দরকার ।

অভিভাবক রাণী বালা  বলেন, ভবনের খুব খারাপ অবস্থা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে খুব ভয় হয় । কিন্তু ছেলে-মেয়েদের মানুষ করার জন্য স্কুলে পাঠাই। আজ তিন সপ্তাহের বেশি খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা চলছে।

৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, স্কুল ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ধসে পড়ার কারণে শ্রেণি কক্ষের ভেতরের মূল পিলারেও ধসে রড দেখা যাচ্ছে। পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে ইউএনও সোহানা নাসরিন ওই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তিনটি কক্ষে তালা লাগিয়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ করার নির্দেশ দেন ও পাঠদান অব্যাহত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে টিনের ঘর নির্মাণের নির্দেশ দেন। আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বাড়ির উঠানের সামনে গাছ তলায় পলিথিনও পাটের চট পেতে কোলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ১৬ থেকে ১৭ দিন ক্লাস নেয়া হয়েছে। এখন প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শ্রেণি কক্ষ থেকে বেঞ্চ বের করে গাছ তলায় উপরে কোনোভাবে একটা প্লাস্টিকের তাবু টানিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছি।

রাজৈর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রওনক আরা বেগম বলেন,দুই দিন পরে সামনে রমজানের ছুটি, ছুটির মধ্যে আমরা নতুন ভবন তুলবো।

ইউএনও সোহানা নাসরিন জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে ওই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তিনটি কক্ষে তালা লাগিয়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে খুব দ্রুত টিনের ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি।