Education-Minister-2

বাংলারশিক্ষা:
বর্তমানে আমরা চতুর্দিকে যে শিক্ষা দেখছি, সারাদেশের কলেজগুলোতে যেভাবে অনার্স মাস্টাস পড়ানো হয়- এই সনদ সর্বস্ব শিক্ষা দিয়ে চর্তুথ শিল্প বিপ্লবের সফল অংশীদার হতে পারবো না। আমাদের শিক্ষিত বেকার তৈরি করে আমরা কিন্তু পারবো না। আমাদের প্রতিটি মানুষকে কর্মক্ষম ও যোগ্য নাগরিক করে তৈরি করতে হবে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সকল পর্যায় শিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নত করতে হবে। আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। পূর্বের যে তিনটি শিল্প বিপ্লব হয়েছে তা থেকে আমার পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লব যেটা অটোমেশিনে, রোবোটিক্সে সেদিক থেকে আমরা পাশ্ববর্তী অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছি। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রযুক্তি বান্ধব। তারা সহজেই প্রযুক্তি গ্রহণ করে ও ব্যবহার করতে পারে। প্রযুক্তির প্রতি আমাদের এই যে আগ্রহ রয়েছে তাই আমাদেরকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে সফল হতে সহযোগিতা করছে। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যদি আমাদের সফল হতে হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে শিক্ষায়।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০০৮ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ, তার অনেক অনেক বছর পর আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলো এখন তারা বলছে তাদের দেশকে ডিজিটাল দেশ করার কথা। আমাদের এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা পৌঁছে গেছে।’

তিনি বলেন, আমি আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীরা মাদক, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা এই সমস্ত সামাজিক ব্যাধি থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে। জ্ঞানে যেমন আমাদের যোগ্য হতে হবে তেমনি থাকতে হবে দক্ষতা, তার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে সঠিক মনোভাব, এই তিনটির সমন্বয় হলেই যোগ্য নাগরিক হওয়া যাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান পত্র-পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ধরণের নারী-নির্যাতনের যেসকল সংবাদ দেখি তা আমাদের মনকে ভেঙ্গে দেয়। আমরা এই ধরণের সংবাদ দেখতে চাই না। নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহন না থাকলে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের সকলকে বাবা-মা, প্রতিবেশি, সহকর্মী, সহপাঠী, পরিচালনা পর্ষদ সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। কোন মেয়ে যদি এসে হয়রানীর অভিযোগ করে তাহলে তার দিকে আঙ্গুল না তুলে তাকে সাহস দিন, সহযোগিতা করুন এবং সাথে সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

Education-Minister

শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বকুল হোসেন।

শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, কালকিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক ও সাবেক চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান শাহীন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এডভোকেট মো. মনিরউজ্জামান চৌধুরী সোহাগ, প্রধান শিক্ষক মো. সালাহ্্ উদ্দিন আকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।