Madaripur-Corona-Vurase

বাংলারশিক্ষা:
আইসোলেশনে থাকা ইতালী প্রবাসীর সন্তানের সাথে লেখাপড়া করা একই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ১৯ শিক্ষার্থীসহ মাদারীপুরে ১শ ২৯জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ । মাদারীপুুরে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১শ ২৯ জনসহ মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২শ ৩ জন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে রিলিজ হয়েছে ১শ ৩৮ জন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ইতালী প্রবাসীর সন্তানের সাথে লেখাপড়া করা ১৯ শিক্ষার্থীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তারা আমাকে হাসপাতালে ডেকে পাঠিয়েছিলেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংশাঙ্ক কুমার ঘোষ বলেন, আইইডিসিআর কর্মকর্তারা মিডিয়ার সাথে কথা বলবেন না।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে ইতালী থেকে শিবচর পৌর এলাকার এক প্রবাসী দেশে আসে। দেশে আসার পর জ¦র কাঁশি অনুভব করলে সে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় আইইডিসিআর এ প্রেরণ করা হয় তাকে। আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে গত রবিবার সকালে শিবচরে এসে এ্যাম্বুলেন্সে করে তার স্ত্রী ও সন্তানকে ঢাকায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ওই প্রবাসীর শাশুড়ীকেও ঢাকায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে ওই ইতালী প্রবাসীর সন্তানের সহপাঠী একই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মীর রিয়াজ আহম্মদ বলেন, মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলায় গত ২০ দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের করোনা সন্দেহে ৩শ ৪১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিল। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত রিলিজ হয়েছে ১শ ৩৮ জন। রিলিজ হওয়াদেরকে ২ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রিলিজকারীদের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তাই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন এবং বর্তমানে আছেন তার সকলেই বিদেশ থেকে আসা। মাদারীপুরের স্থানীয় কোন মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইনে নেই। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১২৯ জনসহ মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২০৩ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাদারীপর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে একশ শয্যা আংশিক প্রস্তুতসহ সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের দুটি কেবিনের ৪টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২টি করে বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। কারো শরীরের করোনার লক্ষণ দেখা দিলে আমাদের সাথে অথবা ঢাকায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। হাঁচি কাঁশির সময় নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম না করার অনুরোধ করেন তিনি।