HSC-Logo

বাংলারশিক্ষা ন্যাশনাল ডেক্স:

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বুধবার এই রোগে আক্রান্ত একজনের মৃতু্য হওয়ায় পূর্ব ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর দাবি অধিক যুক্তিসংগত হচ্ছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। 

জানা যায়, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত জাতীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির বুধবার সভা ডেকেও স্থগিত করেছে। পরীক্ষা উপলক্ষে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্র সচিবদের সভাও স্থগিত করা হয়। সব মিলিয়ে পরস্থিতি পর্যাবেক্ষণ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে একাধিক সূত্র। 

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, একটি ক্লাসের ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হয়। আর পরীক্ষার হলে অন্তত ৭০-৮০ জনকে এক রুমে বসানো হয়। পরীক্ষার কক্ষে শিক্ষক, প্রশাসনের লোকজন দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষও ভিড় করেন। পরীক্ষার্থীদের নিজ কলেজ থেকে দূরের কলেজ পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। এসব কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর জিয়াউক হক বুধবার রাতে বলেন, পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

এদিকে গতকাল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। তার বয়স ৭০-এর বেশি। তিনি বিদেশফেরত নন। তবে বিদেশ থেকে আসা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, নতুন করে চারজন আক্রান্ত হয়েছেন। একজন আগে যারা আক্রান্ত ছিলেন, তাদের পরিবারের সদস্য। বাকি তিনজন বিদেশ থেকে এসেছেন।

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, আইইডিসিআর ঘোষণার পর পরীক্ষায় বসতে যাওয়া ১১ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ দিন আগে গত সোমবার সারাদেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। বুধবার করোনাভাইরাসে একজনের মৃতু্য ঘোষণার পর বাসা থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছেন। 

অভিভাবকদের দাবির মুখে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে থাকে। 

গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনে বলেছিলেন, আমরা এখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। কাছাকাছি সময় গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে এক বেঞ্চ পরপর সিট প্লান করা হবে। সৌজন্যে: দৈনিকশিক্ষাডটকম।