বাংলারশিক্ষা:
আজ বললো একজন জনপ্রতিনিধি, একজন ছুটে চলা মেয়রের কথা। যেখানে করোনা পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠছে অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এলাকায় না থাকার, জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ না করার, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ।

সেখানে একজন মেয়র ছুটে বেড়াচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। কোথায় সাধারণ মানুষ না খেয়ে রয়েছেন, কোথায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিংবা এই পরিস্থিতিতেও পৌরসভার সেবাগুলো ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা পৌরবাসী। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য বর্তমানে মাদারীপুরের সবচেয়ে আলোচিত জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন তিনি। তিনি হচ্ছেন মাদারীপুর পৌরসভার দুইবার নির্বাচিত মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ।

সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ থেকে হয়েছেন মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র। পরপর দুইবার জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে তাকে নির্বাচিত করেছেন মেয়র হিসেবে। দেশের এই ক্রান্তিকালে তারই প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে তার। আর সেই প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করছেন সর্বাত্মকভাবে। ছুটে বেড়াচ্ছেন পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে। করোনা ভাইরাসের ভীতিকে উপেক্ষা করে অসহায় হৃতদরিদ্র মানুষের মাঝে পৌঁছে যাচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী নিয়ে। শুধু তাই না মধ্যবিত্ত যারা অন্যান্য সম্বলহীন মানুষের মতো সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করতে পারেন না রাতের আঁধারে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বাড়িতে।

Khalid-Hossain-Yead_4

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বীরযোদ্ধা হচ্ছেন চিকিৎসকরা। আবার অনেক চিকিৎসক হয়েছেন তার বিপরীত। করোনা ভাইরাসের কারণে হাসপাতালগুলোতে মানুষ পাচ্ছেন না কাঙ্খিত সেবা। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন হাসপাতালে যেতে। ফলে করোনা আক্রান্ত ছাড়াও অসংখ্যক রোগী বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা থেকে। এমনই এক পরিস্থিতিতে মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ গ্রহণ করেছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী সেবা। গঠন করেছেন ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম।

মাদারীপুর পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত মেডিকেল টিমে কাজ করেন মাদারীপুর পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. হরষিত বিশ্বাস। তার সাথে থাকেন মাদারীপুর সদর হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত একজন চিকিৎসক। এই মেডিকেল টিমটি গত ৮ এপ্রিল থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাদারীপুর পৌর এলাকায়। মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক রোগী দেখেন বলে জানান মেয়র। শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, রোগীদের প্রদান করা হয় বিনামূল্যে ঔষধও।

পৌরসভার উদ্যোগে মাদারীপুর পৌর এলাকার রাস্তায় ছিটানো হয় জীবানুনাশক পানি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রাখা হচ্ছে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, সাবান ও টিস্যু। করোনা প্রতিরোধের জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন মেয়র। পৌর এলাকায় চলে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ।

শুধু মেডিকেল টিম পরিচালনা, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও পৌর নাগরিকদের করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা না, পাশাপাশি এই দুর্যোগকালীন সময়ে যেন নাগরিকরা পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন বা সেবা বিঘ্নিত না হয় সেদিকেও নজর রাখছেন বলে জানান মেয়র। এই করোনা পরিস্থিরি মধ্যে পৌরসভার নাগরিকদের নিয়মিত পানি ও রাস্তায় বৈদ্যুতিক আলো সরবরাহ, মশা নিধক স্প্রে সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তাও নজরদারি করছেন।

করোনা প্রতিরোধ করার জন্য গঠন করা হয়েছে পৌর করোনা প্রতিরোধ কমিটি। আর সেই কমিটির সভাপতি হচ্ছেন মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ। তাই জনগণের খোঁজ-খবর রাখার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন সভায় যোগদান করতে হচ্ছে তাকে। এ যেন এক ছুটে চলা মেয়র।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার জনগণ তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমাকে পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত করেছেন। এই পৌরসভা ও এখানের জনগণ আমার কাছে আমানত। এই দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের পাশে থাকার আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করছি সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে থাকার, তাদের সেবা করার। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানুষকে সহযোগিতা করতে এবং করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে।

মেয়র আরও বলেন, আমার সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তঃ সকল পৌরবাসীর কাছে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পৌঁছাতে পারি নাই। তবে আমার চেষ্টার কোন কমতি নেই। আপনার দোয়া করবেন আমি যেন সুস্থ থাকি এবং আপনাদের পাশে থাকতে পারি।

মাদারীপুর পৌরসভার সাধারণ নাগরিকসহ পৌরবাসী মনে করেন, যেখানে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ঘর থেকে বের হন না। সেখানে আমাদের পৌর মেয়র শুধু ঘর থেকে বের হওয়া না সার্বক্ষণিক রয়েছেন পৌরবাসীর পাশে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পৌরবাসীর দিকে। ছুটে চলেছেন অবিরত।