বাংলারশিক্ষা ন্যাশনাল ডেক্স: সংবাদটি দৈনিক সমকাল পত্রিকার তৃতীয় পাতায় আজ মঙ্গলবার  (৫ মে) প্রকাশিত হয়েছে। বাংলারশিক্ষার পাঠকদের জন্য সংবাদটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরাও প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা খাত সংশ্নিষ্ট প্রায় সব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেতে আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের তালিকায় আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, পুস্তক প্রকাশক, মুদ্রণ শিল্প, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, কিন্ডারগার্টেন ও কোচিং সেন্টার মালিক এবং বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।

করোনা সংক্রমণের কারণে সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ। আর সারাদেশের পুস্তক বিক্রির লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকান বন্ধ হয় ২৫ মার্চ থেকে। এসব কারণে শিক্ষা খাত সংশ্নিষ্ট সব অংশীজনই আর্থিকভাবে ‘চাপে’ পড়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি পলিটেকনিক ও বিএম কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা নিয়ে টানাপোড়েনে আছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের আংশিক বেতন হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে মোটেই হয়নি। তবে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়মিতই হচ্ছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতারা বলেছেন, অতীতে এ রকম আর্থিক সংকটে তারা কখনোই পড়েননি। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা চেয়ে সবাই আবেদন করেছেন। করোনার এই ছুটিতে দেশের ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক সংকটে পড়েছে। শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। অনেক প্রতিষ্ঠান মাস শেষে অর্ধেক বেতন দিচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান মার্চের বেতন দিয়ে এপ্রিলের বেতন দেওয়া যাবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকটের সময়ে সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনা চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেছেন, আশা করি তিনি আমাদের এই আবেদনে সাড়া দেবেন।

এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ছুটিতে বন্ধ থাকা দেশের লক্ষাধিক কোচিং সেন্টারের অর্ধকোটি শিক্ষক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। ভাড়া ভবনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান এখন ঠিকমতো বাড়ি ভাড়াও দিতে পারছে না। এ অবস্থায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে কোচিং সেন্টারগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ (অ্যাসেব)।

সংকটের এমন মুহূর্তে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংগঠন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসাব)। করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে প্রায় ১০ লাখ ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। এমসাব বলেছে, প্রায় ১০ লাখ উচ্চশিক্ষিত লোক এই শিক্ষা ব্যবস্থায় জড়িত। যারা পুরোপুরিভাবে শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল। করোনা-সংকটে স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের কাছ থেকে বেতন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্কুলের বাড়িভাড়াসহ সামগ্রিক ব্যয়ভার চালানোর সক্ষমতা এখন তাদের নেই। সৌজন্যে: দৈনিকসমকাল।