শিবচর, বাংলারশিক্ষা:
ফেরি থেকে নামিয়ে চরের মধ্যে আটকে রেখে দুই সপ্তাহ আগে বিয়ে হওয়া এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী এলাকায় চরে মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাসুদ মোল্লা, মাহবুব মৃধা ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদার নামে তিনজনকে আটক করেছে পুৃলিশ। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ স্পীডবোড চালক ফারুককেও আটক করেছে পুলিশ।

শিবচর থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া যাওয়ার সময় প্রথমে ফেরির পিছন দিয়ে মাসুদ মোল্লা, মাহবুব মৃধা ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদার মেয়েটিকে স্পীডবোটে তোলে। পরে স্পীডবোটের জ্বালানী ফুরিয়ে গেলে ট্রলারে করে (ইঞ্জিন চালিত নৌকায়) চরের মধ্যে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। এরপর তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। মেয়েটির ডাক-চিৎকারের চরের আশেপাশের মানুষ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

ঘটনার রাতে অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে স্বামীর বাসা কেরানীগঞ্জ যাওয়ার উদ্যেশ্যে কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ফেরিতে রওয়ানা দেয়। ওই সময় রাসেল মিয়া শিমুলিয়া ঘাটে স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

ঘটনার শিকার মেয়েটির বাড়ি যশোর জেলায়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চাঁদপুর এলাকার এক যুবকের সাথে মেয়েটির সাথে বিয়ে হয়। মেয়েটির স্বামী কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি প্রজেক্ট এ শ্রমিকের চাকুরি করে। গত তিনদিন আগে মেয়েটি কাঁঠালবাড়ি এলাকায় এক আত্মীয়ে বাড়ি বেড়াতে আসেন।

এদিকে বুধবার বিকেল ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় আপোষের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক বিষ্ণপদ হীরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঁঠালবাড়ি এলাকা থেকে কাঁঠালবাড়ী এলাকার ফকির কান্দি গ্রামের তনু মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লা (২৫), একই এলাকার রশিদ মৃধার ছেলে মাহবুল মৃধা (৩০) ও সামাদ হাওলাদারের ছেলে নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে (২৪) গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিবচর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মাসুদ মোল্লা, মাহবুল মৃর্ধা ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদার নামের ৩ যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।