বাংলারশিক্ষা:
অসহায় আর দুর্গত মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছে এক যুবক। পড়াশোনার পাশাপাশি যেকোন দুর্যোগেই অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের উপকারে ছুটে চলে যুবকটি। আজ আমরা বলবো এমন একজন যুবকের কথা যে কিনা যেকোন দুর্যোগেই দুর্গত মানুষের পাশে থেকে চেষ্টা করেন তাদের সহযোগিতার।

যুবকের নাম মো. হযরত আলী। পিতা মো. হায়দার আলী পেশায় একজন দিনমজুর। মাতা সেলিনা বেগম একজন গৃহিনী। মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড়া গ্রামে বাড়ি। পড়াশোনা করছে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে।

নিজের কিংবা পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও দারিদ্র্যতা তাকে হার মানাতে পারেনি মানুষকে সহযোগিতা করা থেকে। নিজে আর্থিকভাবে মানুষকে সহযোগিতা করতে না পারলেও সাংগঠনিকভাবে অর্থ সংগ্রহ করে অসহায় আর দুঃস্থদের মুখে হাসি ফুটাতে ছুটে বেড়ান।

সারা পৃথিবীর সাথে বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যুদস্ত। বিপর্যস্ত দেশের মানুষ। বিশেষ করে অসহায় আর হৃতদরিদ্ররা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব মানুষের পাশে থাকার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন এলাকা থেকে এলাকা। শুধু কি অসহায় ও দুঃস্থদের সহযোগিতায়। পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ, যারা করোনাকালীন সময় খাদ্যের অভাবে ছিল তাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য পৌঁছে দিয়েছেন দিনের পর দিন।

শুধু করোনাকালীন নয়, অন্যান্য সময়ে রয়েছেন মানুষের পাশে। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেখা গেছে মানুষের সহযোগিতার জন্য হাত বাড়াতে। মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পৌঁছানো, দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি কিংবা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কিভাবে সচেতন থাকতে হবে এরকম নানা বিষয়ে সচেতন করেছেন মানুষকে।

মো. হযরত আলী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরা বাহিনী থেকে ২১ দিনের ভিডিপি মৌলিক প্রশিণ এবং ৭০ দিনের বেসিক কম্পিউটার প্রশিণ গ্রহণ করেছে। ‘আনসার ভিডিপি ব্লাড ব্যাংক’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজ পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে এডমিন হিসেবে।

এছাড়া, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে এক সপ্তাহ মেয়াদী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রশিক্ষণ এবং দুই সপ্তাহ মেয়াদী ইয়ুথ লিডারশীপ এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অদম্য মাদারীপুর’ এর সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমআলো বন্ধুসভা মাদারীপুর কমিটির যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক এবং টিআইবি মাদারীপুর ইয়েস সহ-দলনেতা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথেও জড়িত রয়েছে হযরত আলী।

মো. হযরত আলী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরা বাহিনীর ৩৭ তম জাতীয় সমাবেশ তার কর্মকাণ্ডের জন্য ২য় পুরস্কার রৌপ্য পদক অর্জন করেছেন।

মো. হযরত আলী জানান, আমি চাই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরা বাহিনীর সদস্যে হয়ে আজীবন কাজ করার। মানুষের পাশে থাকার জন্য আমাকে আমার বিভিন্ন পরিচিতজন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তাদের আর্থিক সহযোগিতায় আমি মানুষকে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীসহ সহযোগিতা করে আসছি। আমি যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোন পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সহযোগিতায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে চাই।

হযরত আলীর পরিবারের বাবা-মাসহ দুই ভাই ও দুই বোন। পরিবারের বড় সন্তান সে। চারজনই বর্তমানে পড়াশোনা করছে।

করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক মানুষ হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে হযরত আলী। এলাকার যুবকদের মধ্যে নিজের কর্মকাণ্ড দ্বারা ইতিমধ্যেই স্থান করে নিয়েছেন অন্যন্য স্থান। হযরত আলীর মতো যুবককে দেখে দেশের অন্যান্য যুবকরাও নিজেদের আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।