Comments

ছবি: ইন্টারনেট

রাহাত হোসাইন:
অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে আমরা কি আসলেই অসাম্প্রদায়িক হচ্ছি; না কি অসাম্প্রদায়িকতার আড়ালে আমরা আসলে সাম্প্রদায়িক হচ্ছি?

দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সভা-সেমিনারে এক শ্রেণির সুশীল বুদ্ধিজীবী নামক ব্যক্তিরা বলে বেড়াচ্ছেন। তাদের মতে, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সকল ধর্মের মানুষকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানকে বুঝায়।

এসব বুদ্ধিজীবীরা সকল ধর্মকে সমান সুযোগ-সুবিধার কথা বলেন, আবার তারাই তাদের কথাবার্তা শুধুমাত্র একটি ধর্মকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন। আর সেটি হচ্ছে ইসলামকে নিয়ে। এসব বুদ্ধিজীবী সুশীল ব্যক্তিদের অসাম্প্রদায়িকতার বিবরণ ও কথাবার্তা দেখে মনে হয়ে ইসলাম ধর্মকে বাদ দিলে কিংবা ইসলাম ধর্মের বিধি-বিধানকে কটাক্ষ করলে কিংবা ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশ হতে বিতাড়িত করলেই বাংলাদেশটি একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম ধর্মের বিধি-বিধানকে বা মুসলমানদের ধর্মীয় স্থান ও আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলাই তার বাস্তব উদাহরণ।

সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনের একটি টক শো’তে উপস্থাপিকা মিথিলা ফারজানা বললেন “মসজিদ তো সবার আগে জমি দখলের কাজ।”

বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। যেখানে শতকরা ৯০% ভাগ মানুষ মুসলমান। স্বভাবত অধিক সংখ্যক মুসলমানদের জন্য অধিক সংখ্যক মসজিদ থাকবে। যে ধর্মের মানুষ সংখ্যায় বেশি সে ধর্মের উপাসনালয় বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। সারা বাংলাদেশে রয়েছে কয়েক হাজার মসজিদ। আর এসব মসজিদগুলো নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তিদের দানকৃত জমি কিংবা ওয়াকফকৃত স্থান। যার অধিকাংশই জমি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রিকৃত।

এছাড়া যেসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মসজিদগুলো রয়েছে সেইগুলো সেই প্রতিষ্ঠানের ক্রয়কৃত বা নিজস্ব জমিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নির্মিত হয়েছে। যদি মসজিদ নির্মাণ করে জমি দখলই করা হতো তাহলে সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার মসজিদের মধ্যে অন্ততঃ কিছু সংখ্যক মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের মামলা কিংবা অভিযোগ উত্থাপিত হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

আসলে যারা এধরণের কথা বলেন আসলে তারাই এদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। কোন একটি ধর্মকে ও কিংবা ধর্মের মানুষকে অপদস্ত কিংবা বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়; বরং এর মাধ্যমে একটি ধর্মকে অবমাননা করা হয় এবং দেশকে একটি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হয়।

এ ধরণের বক্তব্য হচ্ছে সরকারকে বিব্রত ও বেকায়দায় ফেলানোর একটি কৌশল মাত্র। এসব বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য হচ্ছে এদেশ থেকে ইসলামকে বিতাড়িত করা; যা অসাম্প্রদায়িকতা নয় বরং প্রত্যক্ষভাবে একটি ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। অতএব ইসলামি বিধি-বিধান কখনই অশান্তি বয়ে আনে না এবং অশান্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। মধ্যযুগের সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতি যুগ কেটে গেছে ইসলামের আলোতে।

সম্প্রতি সময়ের আরেকটি ঘটনার দিকে নজর দেওয়া যাক। ডিবিসি নিউজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান একটি টক শো’তে “শুদ্ধভাবে সালাম দেওয়া এবং আল্লাহ হাফেজ বলা বিএনপি-জামাতের মাসায়ালা এবং জঙ্গিবাদের চর্চা” বলেছেন।

ড. জিয়া সাহেব এই ম্যাসেজে তিনি কি বার্তা সারা পৃথিবীর মানুষকে দিচ্ছেন। তিনি তো বর্হিবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মুসলমান এবং ধর্মীয় বিধি-বিধানের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সালামটি একটি সামাজিক প্রথা হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। শুধুমাত্র মুসলমানরা না অনেক সময় অনেক ক্ষেত্রে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষরাও সালাম দেন। এমনকি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ অধিকাংশ রাজনীতিবিদরা বক্তব্যের শুরুতে শুদ্ধভাবে সালাম এবং বক্তব্য শেষে আল্লাহ হাফেজ বলেন। তাহলে যারা সালাম দেন তারা সবাই কি জঙ্গি?

যেসব ব্যক্তি এমন সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলেন আসলে তাদের কি উদ্দেশ্য, তারা আসলেই কি এদেশের মঙ্গল চান; না তারা কোন গুপ্ত এজেন্ট; এ বিষয়ে সরকারের খোঁজ নিতে হবে। কারণ বর্তমান সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রতির সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির অসাম্প্রদায়িক দেশ। কিন্তু এসব নামধারী সুশীল চিন্তাবিদরা দেশকে বর্হিবিশ্বের কাছে একটি অস্থিতিশীল ও জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে চান।

যেখানে বাংলাদেশ আজ রেমিটেন্স, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সারা পৃথিবীর কাছে অন্যতম একটি রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছে; সেই মুহুর্তে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদ ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এসকল ব্যক্তিরা অপচেষ্টা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

সরকারকে এখনই এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যেকোন ধর্মের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদান ও বাংলাদেশ যে একটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপ্রিয় দেশ, তা বর্হিবিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে হবে। পাশাপাশি এসকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বক্তব্য প্রদান করতে সাহস না পায়।

লেখক: সাংবাদিক।