Secondary & High Educationবাংলারশিক্ষা ন্যাশনাল ডেক্স:
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া এ নির্দেশনার আলোকে সব স্কুল-কলেজে অনলাইনে বা ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ক্লাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সাথে স্কুল-কলেজের অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷

অধিদপ্তর বলছে, সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর একইসাথে স্কুল-কলেজের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে পারবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।

শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা মেনে স্কুল-কলেজের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্কুল-কলেজগুলোর প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। এদিন নির্দেশনাটি আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি দেয়া হয়েছে সব জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রধানদের।

অধিদপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাস্তবতার ভিত্তিতে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলবে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সাথে সমন্বয় রাখবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সব বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, পানি এবং গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রতিষ্ঠানের জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন করে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে পারবেন।
অধিদপ্তর বলছে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রবাস বা ছাত্রীনিবাসে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে তাদের সুবিধার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাস খোলা থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অধিদপ্তরের সব দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় যথারীতি চালু থাকবে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও স্কুল কলেজ পরিচালনা এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।


সূত্র: দৈনিকশিক্ষাডটকম।