XII-Admissionবাংলারশিক্ষা ন্যাশনাল ডেক্স:
বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের আবেদন শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি)। সোমবার ও মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। প্রথম ধাপে আবেদন করেও নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ধাপের আবেদন করতে পারবেন।

জানা গেছে, শুধু অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

২০১৯, ২০২০, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে দেশের যে কোন শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৯
২০২০ ও ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোন কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। এছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলতি বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীরাও ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোন বোর্ড বা অনুরুপ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে তার সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

ভর্তির জন্য বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোন একটি, মানবিক গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোন একটি এবং ব্যবসায় শিক্ষা গ্রপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক গ্রুপের যে কোন একটিতে আবেদন করতে পারবেন। আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোন একটিতে এবং সাধারণ বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোন একটিতে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। আর ২ মার্চ থেকে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের আবেদন করেও ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হননি। এদের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই বিজ্ঞান বিভাগের বলে জানা গেছে।

ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন থাকলেও লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর নির্বাচিত হতে না পারার কারণ হিসেবে ‘উচ্চাশাকে’ চিহ্নিত করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্তারা। তারা বলছেন, না বুঝে নামী কলেজে ঢালাওভাবে আবেদন করায় অনেক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি। একাদশে ভর্তির জন্য এখনো পর্যাপ্ত আসন আছে জানিয়ে নির্বাচিত হতে না পারা শিক্ষার্থীদের বুঝে শুনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ড কর্তারা।

মনোনয়ন না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর চয়েস লিস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা নিজ নিজ বোর্ডের নামী কলেজগুলো নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু ওই কলেজগুলোতে তাদের থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাও চয়েস দিয়েছেন। এছাড়া ১০টি আবেদনের সুযোগ থাকলেও অনেকে ৫টি আবেদন করেই আর চয়েস দেননি। যদিও তারা আরও কয়েকটি কলেজে চয়েস দিতে পারতেন।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান [মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বদলির আদেশাধীন] অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ভর্তির মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন পর্যালোচনা করে যা দেখেছি তারা না বুঝে আবেদন করায় সুযোগ হয়নি। কোনো কোনো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী হয়তো ১ হাজার নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার পছন্দ তালিকায় রাজধানীর নামী কলেজ নির্বাচন করেছেন। এখন ঢাকা কলেজকে তিনি ওই তালিকায় রেখেছেন। ঢাকা কলেজে সর্বশেষ শিক্ষার্থী যে ভর্তির মনোনয়ন পেয়েছেন দেখা গেছে তার মোট নম্বর হয়তো ১ হাজার ১০০ বা তার বেশি। যিনি ১ হাজার নম্বর পেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি তাই সুযোগ পাননি।

মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বুঝে-শুনে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক নেহাল আহমেদ আরও বলেন, না বুঝে চয়েস না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বিবেচনা করে ভর্তির চয়েস দেয়াটাই দ্বিতীয় ধাপের আবেদনের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় ধাপের আবেদনের আগে বিবেচনা করতে হবে সে কত নম্বর পেয়েছে। কোন কলেজে কত সিট আছে সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া যেতে পারে। সে কলেজে কত নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তির মনোনয়ন পাচ্ছেন সে বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে চয়েস লিস্ট দেখে মনে হয়েছে কম্পিউটার দোকানি শিক্ষার্থীদের হয়ে চয়েস দিয়েছেন। এমন না করে বুঝে শুনে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে।

ঢাকা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, পর্যাপ্ত আসন থাকলেও অনেকে সুযোগ পাননি। এর কারণ উচ্চাশা। তারা শিক্ষার্থীকে নিজ বাড়ি বা আশেপাশের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন না করে ঢালাওভাবে আবেদন করেছেন। নাম দেখে কলেজে ভর্তির আবেদন করায় অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাননি। তবে, তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের আবেদনের সুযোগ পাবেন। মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা না করা পরামর্শ থাকবে। আমাদের প্রায় ২১ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পাস করেছে। তাদের মোট সংখ্যার তুলনায় আমাদের মোট আসন সংখ্যা বেশি। ২৫ লাখের বেশি আসন আছে।
সূত্র: দৈনিকশিক্ষাডটকম।